মসজিদ-মাদ্রাসা মানুষকে প্রকৃত অর্থে মুসলমান বানায় না; তৈরি হয় ধর্মের নামে সহিংসতা ও যৌন নির্যাতনে জড়িত অপরাধী

সাম্প্রতিক বছরে বাংলাদেশের নেত্রকোনা উপজেলায় এক কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা এবং শিক্ষক ১১ বছর বয়সী এক এতিম শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। পরবর্তীতে এ শিশু গর্ভবতী হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশের শিশু ও কিশোরীদের যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের এমন চিত্র বেশ পুরনো। কিন্তু এসব বন্ধে সরকারের প্রথমত যে উদ্যোগটি দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন ছিল, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়া। সারা বছর গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়া ধর্মের আড়ালে এ ধরনের গোপন সহিংসতা, নির্যাতন এবং যৌনপীড়নের হেরেমখানা ইসলাম ধর্মের শিক্ষা প্রচার প্রসারে প্রতিষ্ঠিত এ ধরনের হেরেমখানাগুলো আলোচনা ও সমালোচনায়।

যারা বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে, হেফজখানা, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগণিত শিশুদের ধর্ষণকাণ্ডে সম্পৃক্ত, এর বেশিরভাগই ইসলামী ধর্ষক। ইসলাম ধর্মই এদের সহায়। এবং ধর্মীয় রাজনীতি। এর ফলে এদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না। ধর্মীয় আইন, শরিয়াহ, ধর্মীয় লেবাস এবং শরিয়াহ আইনই এদের রক্ষক।

ধর্ষণ ও বলাৎকার মহামারী আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশে। এসকল ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা একটি শিশুকে স্বাধীন মানুষের বিপরীতে ভীতি, বৈরী পরিবেশ, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এবং দমন-পীড়নের একটি বদ্ধমূল ব্যবস্থায় পরিচালিত করে। মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা যতটা না নৈতিক হিসেবে গড়ে তুলে, তার চেয়েও অনৈতিক হিসেবে পরিচালিত করে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে যে ধরনের নিপীড়নের উদাহরণ দেখা যায়, বাংলাদেশের নারী ও শিশু অধিকার আইন ২০০০-এর ব্যত্যয় এখানে স্পষ্ট।

মসজিদ, মাদ্রাসা ও ইসলামী জ্ঞান আগামী প্রজন্মের শিশুদের ধর্মীয় জ্ঞানের অভ্যন্তরে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার দিকে ধাবিত করছে। এবং যেসব শিশুরা এসব প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনে যায়, এরা ফিরে আসছে মানসিক ট্রমা নিয়ে।

শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর হতে হবে। ধর্মীয় এসকল প্রতিষ্ঠানেও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একটি শিশুর স্বাভাবিক শৈশব নিশ্চিত করা কোরআন ও হাদিসের চেয়েও মূল্যবান। কথিত যৌন প্রলোভনকারী (আল্লাহ) ও নবী মুহাম্মদের জাহেলিয়াত যুগের বর্বরতা শিক্ষার জন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই।

কারণ নবী মুহাম্মদ এমনই এক বর্বরতার আদিম সত্তা, যেখানে ৬ বছর বয়সী শিশু আয়েশাকে দেখেও প্রলুব্ধ হয়। কোরআনের আয়াত নাজিল করে ইসলামের নামে শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের বৈধতা দেয়।

একজন সৃষ্টিকর্তা কী করে একজন নাবালিকা শিশুর প্রতি এমন অবিচারের অনুমোদন করতে পারেন? সংশয় এখানে স্পষ্ট।

যৌন নির্যাতনের এমন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হোক। মসজিদ, মাদ্রাসা ও মক্তবের নামে, ধর্ম শিক্ষার নামে এই অসুস্থতা আর ধর্ষণ, বলাৎকারের এই উন্মাদনা বন্ধ হোক।

মসজিদ মাদ্রাসা মুসলমান বানায় না। এখানে তৈরি হয় ইসলামী ধর্ষক, মৌলবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ।