ইসলামের সূত্রপাত প্রাগৈতিহাসিকভাবে খ্রিষ্টান, ইহুদি ও পৌত্তলিকতার মধ্য দিয়ে। ইসলাম ধর্মের উৎস সেই পৌত্তলিক সম্প্রদায়, যে সম্প্রদায়ের পূজা নবী মুহাম্মদ করেছিলেন।
আজকের মুসলমানেরা হজ্জের নামে যে রথযাত্রা করেন অর্থ, সময় ও শরীরের শান্তিকে উপেক্ষা করে, এর সূত্রপাত সেই পৌত্তলিক রীতিনীতি থেকেই উৎসারিত।
এ সত্য উচ্চারিত হলে তওহীদি মুসলমান উন্মুক্ত তরবারি হাতে ছুটে আসবেন না এর নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। কারণ বহু মুসলমান এসকল সত্য জানার পরও উচ্চারণ করেন না, শুধুমাত্র মুসলমানিত্ব থেকে খারিজ হয়ে যাবেন এমন ভীতি থেকে। ইসলাম এমন এক ভ্রান্তিপূর্ণ ধর্ম ব্যবস্থা, যেখানে প্রশ্ন করা, সন্দেহ পোষণ করার সুযোগ অবারিত নয়; সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
“তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে বিষয়ে যদি তুমি সন্দেহে থাকো, তাহলে তোমার পূর্বে যারা কিতাব পাঠ করেছে তাদের জিজ্ঞাসা করো… অতএব তুমি কখনো সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”
সূরা ইউনুস — ১০:৯৪
এমনকি যারা ধর্ম ইসলাম, নবী মুহাম্মদ এবং কোরআন নিয়ে সন্দেহ পোষণ করবে, তাদের বিষয়েও নির্দেশনা জারি করে ধূর্ত মুহাম্মদ। “হে মুমিনগণ! কোনো ফাসিক ব্যক্তি যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে দেখো।
সূরা হুজুরাত — ৪৯:৬
হজ্জে গিয়ে কালো পাথরে চুমু খাওয়া, মুযদালিফায় রাত্রি যাপন, জামরাতে পাথর নিক্ষেপ করা – এগুলো সবই ছিল প্রাক-ইসলামিক যুগে পৌত্তলিক রীতি। যা কথিত নবী মুহাম্মদের জন্মেরও শত শত বছর আগে থেকেই পালিত হয়ে আসছিল। সেলাইবিহীন ঢিলেঢালা বস্ত্র পরিধান, কালো পাথরকে চুমু খাওয়া কিংবা স্পর্শ করা, সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়ানো, আরাফাতে অবস্থান এবং শয়তানের প্রতি পাথর নিক্ষেপের প্রথা ইসলাম-পূর্ব যুগেও আরবে প্রচলিত ছিল এবং সামান্য কিছু পরিবর্তন সাপেক্ষে এগুলো বজায় রেখেছেন মোহাম্মদ তাঁর ধর্ম ইসলামে।
আরবরা কাবা ঘরকে প্রদক্ষিণকালে লাত, ওজ্জা, মানতসহ আরও অনেক গোত্র দেবতার নাম উচ্চারণ করত। যেমন, “হে মানত, আমি তোমার আদেশ পালন করতে প্রস্তুত” (লাব্বায়েকা) এবং দেবদেবীর নাম ধরেও উচ্চারিত হতো। ইসলামে এই ধরনের সম্বোধনের রীতি আল্লাহকে সম্বোধন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে এবং তা পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়ায়, ‘লাব্বায়েকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক!’ পৌত্তলিক আরবরা অনেক সময় নগ্ন হয়ে কাবা ঘরকে প্রদক্ষিণ করত। মোহাম্মদ তা নিষিদ্ধ করে সেলাইবিহীন বস্ত্র পরিধানের রীতি প্রচলন করেন।
আজকের বিশ্বে আধুনিক মুসলমানরা এসকল ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন। যার ফলে জন্মগতভাবে ইসলামের অনুসারী হয়েও এই ভ্রান্তি থেকে ইসলাম ত্যাগ করে বেরিয়ে আসছে।
