ইসলামের উৎপত্তি, নবী মুহাম্মদের ভূমিকা ও ঐতিহাসিক বিতর্ক ( পর্ব — ১ )

নবী মুহাম্মদের ইসলাম প্রচার, নবুয়্যতের দাবি এবং নিজেকে খাতামুন নাবিয়্যিন (সর্বশেষ নবী) হিসেবে দাবির উপস্থাপন কোনো অলৌকিক বিষয় নয়। তিনি ছিলেন তৎকালীন ধর্ম বিষয়ে জানাশোনা, প্রভাবিত ছিলেন একেশ্বরবাদের দ্বারা। নিজস্ব মতবাদ ও দর্শনের প্রচারে ধর্ম ইসলামের প্রতিষ্ঠায় প্রচারণা চালান। এবং নিজের জীবদ্দশায় ইসলাম প্রচারকে উদ্দেশ্য করে শতাধিকেরও বেশি যুদ্ধে জড়ান। কিন্তু ইসলাম প্রচারের বিপরীতে এসকল যুদ্ধে মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রভাব, অর্থ ও নারী।

নবী মুহাম্মদের পৌড়া স্ত্রী খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদের মৃত্যুর পর দশ বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে কথিত এ মুসলমানের নবী কী করে ক্ষমতালোভী, লালসালিপ্সু, যুদ্ধবাজ একজন ধর্মপ্রচারকে পরিণত হলেন?

ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে বিভিন্ন ইহুদি গোত্রে হামলার মধ্য দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যাযজ্ঞ চালায়। বনি কুয়াইজার গোত্রে নবী মুহাম্মদের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে আটশ থেকে নয়শত লোককে হত্যায় সচেষ্ট হন, এমনকি তারা আত্মসমর্পণের পরও। নবী মুহাম্মদের এই সকল হত্যাযজ্ঞ ছিল নাৎসি ভয়াবহতার মতই। খাইবার দখলের পর মুহাম্মদ (দঃ) সাফিয়া নামের ১৭ বছরের সুন্দরী ইহুদি নারীকে অধিগ্রহণ করেন এবং তাঁর সকল নিকটাত্মীয়কে হত্যা করেন। রায়হানাকে অধিগ্রহণ করেন বনি কুরাইজা দখলের পর।

কোরআনের আয়াতগুলো আজকের বর্তমান বিশ্বেও ইসলাম, খেলাফত ও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার নামে মৌলবাদ, উগ্রবাদ, চরমপন্থা থেকে শুরু করে জঙ্গিবাদের রসদের যোগান দিচ্ছে। কোরআনে ধূর্ত মুহাম্মদ যে শান্তিময় আয়াতের অবতারণা করে মক্কা জীবনে, মদিনায় তাঁর স্বরচিত কাব্যিক আয়াতের ধ্যান, ধারণা এবং কার্যক্রম এর বিপরীত। মক্কায় যে আয়াতগুলো (আল্লাহর) নামে ধূর্ত মুহাম্মদ নাজিল করে এর সবকটিই জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে কথিত সে সময়ের নও মুসলিমদের প্রলুব্ধ করে। “আগে বিধর্মীদের সাথে লড়াই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কিন্তু পরে সেটা বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়।”

“মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর (সুরা ৯:৫) – এই আয়াতের মাধ্যমে আগেকার সকল পরমতসহিষ্ণু নির্দেশকে বাতিল করা হয়েছে।” যেখানে নবী মুহাম্মদ তার স্বরূপে আবির্ভূত হয়।

ইসলাম ধর্মের এই কথিত নবী ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকেও পৌত্তলিক দেব-দেবীদের উপাসনা করতেন, কোরবানি দেওয়া মাংস রান্না করে জায়েদের জন্য নিয়ে যেতেন তার সাথে খাওয়ার জন্য। তখন এই জায়েদ বিন আমরই মুহাম্মদকে তিরস্কার করতেন পৌত্তলিকতার কারণে। একেশ্বরবাদ চর্চার পরামর্শ দিতেন নিয়মিত। (বুখারি, খণ্ড ৭, বই ৬৭, হাদিস ৪০৭)

আজকের মুসলমানরা বলার চেষ্টা করেন, নবী মুহাম্মদ ইসলাম ধর্মের নামে যেসব যুদ্ধ সংঘটিত করেন তার সবই ছিল আত্মরক্ষার্থে! যা সম্পূর্ণ একটি ভ্রান্ত ও মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত। যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে, তার প্রায় সবই হয়েছে অর্থ-সম্পদ লুটপাটের জন্য, নারী সম্ভোগ এবং প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে।

বনি মোত্তালিক গোত্র অথবা সিরিয়া থেকে বাণিজ্য করে বাড়ি ফেরা কোরায়েশ বণিক দল তো মদিনা আক্রমণ করেনি। তাহলে কেন মোহাম্মদ তাদের ওপরে চোরাগোপ্তা হামলা চালালেন? নবী মোহাম্মদ ছিলেন ধর্ম ইসলামের নামে একজন নারীলিপ্সু, জঙ্গি ও লুটেরা।

সাধারণ মানুষ হত্যার ঘোষণা একমাত্র ইসলামেই প্রকাশ্যে দেওয়া হয়। যেখানে ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও বিশ্বাসী মানুষদের হত্যাযজ্ঞকে জায়েজ করা হয়েছে। আজকের বিশ্বে যে চরমপন্থা, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ এসকল কিছুই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নবী মুহাম্মদকে অনুসরণ করে। নবী মুহাম্মদ ও তাঁর স্বরচিত কোরআন দুটোই আধুনিক বিশ্বের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করে তুলছে, যেখানে মিশে আছে হত্যাযজ্ঞ, রক্তপাত ও জঙ্গিবাদী আদর্শ।

আজকের সময়ে এসে ধর্মের নামে জঙ্গি তৈরি করছে এ বর্বর, আরবের জাহেলিয়াতের ধূর্ত পয়গম্বর নবী মুহাম্মদের ইসলাম ও তাঁর দর্শন। কোরআন সেই বই, সেখানে জঙ্গিবাদের উৎস হিসেবে এটিকে নিষিদ্ধের দাবি রাখে।

ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরবারির আঘাত, সম্পদ লুট ও হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে। এ ইসলাম কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠার ধর্ম হতে পারে না।