ইসলাম ধর্মে স্রষ্টা (আল্লাহ) সম্পর্কিত ধারণাটি নবী মুহাম্মদের মনস্তাত্ত্বিক এবং প্রয়োজন থেকে উদ্ভূত। আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে আরব উপদ্বীপে মানুষের ধর্মান্ধতা, অন্ধ আনুগত্যকে কাজে লাগিয়ে ভয়, নিয়ন্ত্রণ, কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ইসলাম ধর্মের যাত্রাপথ তৈরি করেছিল একটি জিহাদি গোষ্ঠী।
স্রষ্টার ধারণা তো সুবিস্তৃত, কেন একজন স্রষ্টা শুধুমাত্র নিজের শ্রেষ্ঠত্ব, পরিচয় ও স্বীয় সৃষ্টির আনুগত্য লাভে, স্তুতির জন্য নবী মুহাম্মদের মতো একজন ক্ষুদ্র প্রজাতির উপর নির্ভরশীল হবেন?
লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ধর্মগ্রন্থ কোরআনের যে শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা হয় বিভিন্ন বর্ণনায়, সে কোরআনে কেন একজন নারীর রেড ভেলভেটের অন্তর্বাস নিয়ে আয়াত নাজিল করবেন নবী মুহাম্মদকে উপলক্ষ্য করে? কেন কোরআনজুড়ে মহাবিশ্বের মৌলিক কাঠামো, জীবনের উৎপত্তি, বা ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক সম্ভাবনা নিয়ে কোনো স্পষ্ট, পরীক্ষণযোগ্য বক্তব্যের পরিবর্তে নবী মুহাম্মদের জীবনের আদ্যোপান্ত কেন্দ্রিক আয়াত সময়ের আবর্তে সৃষ্টিকর্তা নাজিল করতে যাবেন?
এটি সম্ভব হয়েছে এ কারণেই, কোরআন মানবসৃষ্ট গ্রন্থ, যেখানে নিজস্ব অভিপ্রায়, কামনা, বাসনা, যৌনতা ও বাস্তব জীবনের হৃদয়জটিলতা স্থান করে নিয়েছে। বৈধতা দেওয়া হয়েছে এমন সব অসংগতি ও মানবাধিকারবিবর্জিত কর্মকাণ্ডের, যা এ যুগের মানবাধিকার ও আইন নবী মুহাম্মদকে ফাঁসির কাঠে ঝুলাত, যৌন নিপীড়ক হিসেবে শাস্তির মুখোমুখি করত।
সে সময়কার আরব উপদ্বীপের অঞ্চলের মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা নবী দাবিদার এই মুহাম্মদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সেই ব্যক্তির ব্যক্তিগত প্রয়োজন, তার কর্তৃত্ব রক্ষা এবং তার সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা প্রমাণের জন্যই বক্তব্যগুলো সাজানো। এবং এই উপাখ্যানে (আল্লাহ) সৃষ্টিকর্তা মুহাম্মদের সৃষ্ট একটি কাল্পনিক সংস্করণ।
যদি কোনো সত্তা এ মহাপৃথিবী ও গ্রহ-নক্ষত্র তৈরি করে থাকেন, সেখানে কেন একটি পবিত্র সত্তা একজন বর্বর, নারীলিপ্সু, উদ্বেগ থাকা ক্ষীণকায় পার্থিব মুহাম্মদের মতো একজন মানুষের কাছে এসে নিজের স্বীকৃতি মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে চাইবেন?
কোরআনের অসঙ্গতি এখানেই স্পষ্ট। যে কোরআন অন্তর্বাস হোক বা চাদর, যাই হোক, এমন শত শত অযাচিত আয়াতে ভরপুর, যেখানে মহাবিশ্ব ও সৃষ্টি সম্পর্কিত মৌলিকতা নেই, যেখানে অসীম সত্তা মুহাম্মদের মতো এক আরব উপদ্বীপের ধূর্ত, প্রলুব্ধ একটি মানুষের কাছে স্বীকৃতির জন্য প্রথম আসমানে নেমে আসে; সেখানে কোরআন, নবী মুহাম্মদ ও ইসলামের অস্তিত্ব যে অস্তিত্বহীন, সেটি বলা বাহুল্য নয়।
