নারীর স্বাধীনতা, এমন প্রশ্নে ইসলাম বেশ বিতর্কিত। কারণ হিসেবে ইসলাম নারীদের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে পোশাক, জীবনধারণ পদ্ধতি, ব্যক্তিগত বোধ, ধর্ম পালনের পদ্ধতি, উত্তরাধিকার, হজ ও ওমরাহ থেকে মসজিদে উপস্থিতি সকল কিছুর প্রতিই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
হজ ও ওমরাহ পালনে মুসলিম নারীরা উপস্থিত হয়ে একসাথে আচার-অনুষ্ঠান পালন ও নামাজ আদায় করলেও, নারীদের মসজিদে উপস্থিতিকে নাজায়েজ বলা হয়েছে। নবী মুহাম্মদ নারীদের নামাজ আদায় প্রসঙ্গে বলেন,
মহিলাদের মসজিদ তাদের ঘরের অন্দরমহল। [মুসনাদে আহমদ : ২৬৫৪২]
আরেক রেওয়ায়েতে এসেছে, আমি হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে দেখেছি, তিনি জুমার দিন মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিচ্ছেন এবং বলছেন, তোমরা ঘরে চলে যাও, ওটাই তোমাদের জন্য উত্তম। [মুজামুল কাবীর : ৯৪৭৫]
কিছু কেন কথিত এ ধর্মপ্রাণ মুসলিম, আখেরি পয়গম্বর ধূর্ত নবী মুহাম্মদের ইসলামের এত বিষনিষেধ ও বৈরিতা নারীদের ক্ষেত্রেই?
ইতোপূর্বে নারীদের পর্দা প্রথার উদ্ভব নিয়ে আলোচনা করেছি। যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে মুসলমান পুরুষের নৈতিক পদস্খলন বেশ স্পষ্ট। এর ব্যত্যয় ঘটেনি নবী মুহাম্মদের জীবনেও। নারী আসক্তি ঐতিহাসিকভাবেই মুসলমানদের তাড়িত করত। যে লিপ্সুতা, আসক্তি ও চারিত্রিক বৈতরণী স্বয়ং ধর্মের নবী মুহাম্মদও এড়াতে পারেননি।
১১-এর অধিক স্ত্রী গ্রহণ, দাসী প্রবৃত্তি, যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের প্রতি শারীরিক যৌন পীড়নের যে ঐতিহাসিক সত্য, তা মুসলমানকে এমন একটি জায়গায় উপনীত করেছে যেখানে নারী একটি ভোগ লালসার বস্তু হিসেবে দৃশ্যমান। যেখানে নারীর আত্মমর্যাদা ভূলুণ্ঠিত।
ইসলামে এটি একটি নিরেট বাস্তবতা। এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে ধর্ম প্রচারকে সামনে রেখে নবী মুহাম্মদ যে ধরনের কোরআনের আয়াত নাজিল করেছেন স্বয়ং নিজে (আল্লাহ) হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়ে, সেখানে দেখা যায় বেহেশত সম্পর্কে জিহাদে তাঁর অনুসারীদের লেলিয়ে দিতে, নিরীহ মানুষদের হত্যা করতে; নারীদের শরীরবৃত্তীয় বর্ণনা, জৌলুসপূর্ণ বেহেশতে নারীদের শরীরবৃত্তীয় বর্ণনায় প্রাধান্য পায় নারী সম্ভোগের উত্তেজনাপূর্ণ কল্পকাহিনী।
সূরা আর-রহমান (৫৫:৫৬–৫৮) — তাদের দৃষ্টি সংযত এবং সৌন্দর্যকে রুবি ও প্রবালের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
‘আত-তিরমিজি ১৬৬৩’ বলা হয়েছে, “প্রত্যেক পুরুষ জান্নাতির জন্য নিশ্চিতভাবে ৭২ হূর, যেখানে তাদের সাথে অবারিত যৌনতা উপভোগের সুযোগ।
কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে নামাজ আদায়ের সময় মুসলমানের স্মৃতিতে যখন এমন কিছু ভেসে ওঠে, সাধারণভাবেই এই সকল লিঙ্গপাল মুসলমানেরা ষড়রিপু দ্বারা তাড়িত হয়। রূপকথার জান্নাতের হুরিদের উন্মাদনা তৈরি হয়। যে উন্মাদনা থেকে মুসলিম নারীদের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির ঝুঁকি তৈরি হয়। আর সেখানে পাশাপাশি নামাজ আদায় করলে যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ; তা নারীর জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।
এ সকল কারণেই মূলত মসজিদে নারীদের নামাজ আদায়ে এত বিধিনিষেধ। যে ধর্ম ও এর অনুভূতি নারীদের শারীরিক সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না, সেটি মসজিদ কি মাদ্রাসা কি মক্কা মদিনা; সে ধর্ম পরিত্যাজ্য।
